সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন চাই

  • আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৫ ০৮:১১:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৫ ০৮:১১:১০ পূর্বাহ্ন
হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন চাই
তাহিরপুরে বিএনপির জনসভায় দলটির কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সাধারণ স¤পাদক ও সুনামগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আনিসুল হক বলেছেন- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হাওরাঞ্চল আর পিছিয়ে থাকবে না। এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হাওরবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিধ্বনি। বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল - বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিশাল জলভূমি দেশের কৃষি ও মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। অথচ এই অঞ্চলের মানুষ এখনও যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি বিপণন ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে। বর্ষায় হাওর হয়ে ওঠে বিচ্ছিন্ন দ্বীপসমূহের সমষ্টি; শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় বেকারত্ব, খরা ও নাব্যতা সংকট। আনিসুল হক তার বক্তব্যে বলেছেন- হাওরের কৃষকের উন্নয়ন, খাল-নদী খনন, নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং শ্রমিক-বণিকের বৈষম্য দূর করার জন্য তিনি কাজ করবেন। এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হলে হাওরের অর্থনীতি এক নতুন দিগন্তে পৌঁছতে পারে। বিশেষ করে “খাল খনন কর্মসূচি”র মতো কার্যকর উদ্যোগ একসময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হাতে নিয়েছিলেন, যা কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে নদী ও খালের নাব্যতা হারানোয় জলাবদ্ধতা, আগাম বন্যা ও ফসলহানির সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাই হাওরের উন্নয়নে নতুন করে জলস¤পদ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। তবে শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন টেকসই পরিকল্পনা, স্থানীয় অংশগ্রহণ এবং পরিবেশসম্মত উন্নয়ন কৌশল। হাওরাঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করে বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে যোগাযোগ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, বাজার ব্যবস্থাপনা, বিকল্প কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সম্প্রসারণে। একইসাথে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হাওর উন্নয়নকে দলীয় প্রতিযোগিতার বাইরে রেখে একটি জাতীয় অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে দেখা। কারণ হাওরের উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও গ্রামীণ অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন। হাওরাঞ্চলের মানুষ বহু বছর ধরে শুধু ভোটের মৌসুমে রাজনীতিকদের আশ্বাস শুনে আসছেন। এখন সময় এসেছে কথার নয়, কাজের রাজনীতি দেখানোর। যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় আসুক- হাওরের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। হাওরের উন্নয়নই হবে জাতীয় উন্নয়নের মাপকাঠি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স